আশুলিয়ায় স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানকে গলাকেটে হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ২

আশুলিয়ায় স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানকে গলাকেটে হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ২

ঢাকার আশুলিয়ায় একই পরিবারের তিনজনকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। অর্থের লোভেই স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সন্তানকে হত্যা করেছে সাগর ও ঈশিতা।

মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান কমান্ডার খন্দকার আল-মঈন।

তিনি জানান, রোববার (২ অক্টোবর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুরের শফিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা মো. সাগর আলী ও ঈশিতা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তারা প্রথমে অর্থের লোভে ও পরবর্তীতে কাঙ্ক্ষিত অর্থ না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে তিনজনকে হত্যা করে।

খন্দকার আল-মঈন জানান, ২৮ সেপ্টেম্বর সাগর সাভার বারইপাড়া এলাকায় দোকানে চা খাওয়ার সময় মোক্তারকে পার্শ্ববর্তী একটি ভেষজ ওষুধের দোকানে তার শারীরিক সমস্যার বিষয়ে চিকিৎসা নিয়ে কথা বলতে দেখে। সাগর জানতে পারে, মোক্তার কবিরাজি চিকিৎসায় ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ করেও ভালো ফল পায়নি। সাগর কৌশলে মোক্তারকে ডেকে নিয়ে আসে এবং তার সাথে কথাবার্তায় জানতে পারে যে, ভেষজ ও কবিরাজি চিকিৎসার প্রতি আগ্রহ ও আস্থা আছে তার। মোক্তার ও তার পরিবারের সদস্যদের কিছু শারীরিক সমস্যার কথাও সাগরকে জানানো হয়। সাগর জানায় যে, তার স্ত্রী ভালো কবিরাজ এবং সে ভালো চিকিৎসা দেবে। এক পর্যায়ে সাগর চিকিৎসার জন্য মোক্তারের সঙ্গে ৯০ হাজার টাকার চুক্তি করে। সাগর ও তার স্ত্রী ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে ওষুধসহ মোক্তারের বাসায় গিয়ে চিকিৎসা করবে বলে জানায়। সাগরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোক্তার মোবাইল নম্বর চাইলে সাগর তার আত্মীয়ের মোবাইল নম্বর দেয়। পরে সাগর বাসায় গিয়ে তার স্ত্রীকে এ বিষয়ে জানায় এবং স্ত্রী বিপুল অঙ্কের টাকার কথা শুনে রাজি হয়।

তিনি আরও জানান, সাগর ও তার স্ত্রী পরিকল্পনা করে, মোক্তারের বাসায় গিয়ে কবিরাজি চিকিৎসার কথা বলে তার পরিবারের সবাইকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অর্থসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করবে। পরিকল্পনা মোতাবেক সাগর গাজীপুরের মৌচাক এলাকার একটি ফার্মেসি থেকে ১ বক্স (৫০টি) ঘুমের ওষুধ কিনে আনে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সাগর ও তার স্ত্রী গাজীপুরের মৌচাক থেকে মোক্তারের বাসার উদ্দেশে রওনা দেয় এবং জামগড়া মোড়ে মোক্তারের সঙ্গে দেখা করে তার বাসায় যায়। মোক্তারের বাসায় গিয়ে তার পরিবারের সাথে প্রাথমিক পরিচয়ের পর সাগরের স্ত্রী ঈশিতা তাদের সমস্যার কথা শোনে এবং ইসবগুলের শরবতের সাথে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে তাদের খাওয়ায়। মোক্তার, তার স্ত্রী ও ছেলে ওষুধের প্রভাবে ঘুমিয়ে পড়ে। সাগর ও তার স্ত্রী প্রথমে মোক্তারের রুমে গিয়ে তার হাত ও পা বাঁধে। পরে মোক্তারের স্ত্রীর হাত-পা বাঁধে। তারা মোক্তারের মানিব্যাগ, তার স্ত্রীর পার্স ও বাসার অন্যান্য স্থানে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রীর জন্য তল্লাশি করে মাত্র ৫ হাজার টাকা পায়। টাকা কম পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে বটি দিয়ে প্রথমে মোক্তারের গলায় উপর্যুপরি কোপ দিয়ে হত্যা করে। অন্য কক্ষে গিয়ে ছেলে ও স্ত্রীকে একই বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে সাগর ও ঈশিতা।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *